← Back

ডাকসুতে শিবিরের ‘ভূমিকম্প’, বিএনপির জন্য অশনি সংকেত: পিনাকী ভট্টাচার্য

পিনাকী ভট্টাচার্যর মতে, এই ফলাফল কেবল একটি সংগঠনের বিজয় নয়, বরং দেশের সেকুলার রাজনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং বিএনপির জন্য এক কঠিন বাস্তবতা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
পিনাকী ভট্টাচার্য
ছবিঃ পিনাকী ভট্টাচার্য
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের জয়কে "মজলুমের বিজয়" আখ্যা দিয়ে পিনাকী ভট্টাচার্য বলেছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতীয় বয়ান (ন্যারেটিভ) ভেঙে পড়ছে। তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিএনপির কৌশলগত ব্যর্থতা, জামাত-শিবিরের সংগঠনগত শক্তি, এবং আগামী জাতীয় রাজনীতিতে এই বিজয়ের সম্ভাব্য প্রভাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিপুল জয় কেবল ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করছে বলে বিশ্লেষণ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য।

তিনি বলেছেন, “এই ফলাফল বাংলাদেশের সেকুলার এসটাবলিশমেন্টের জন্য এক ভয়ানক দুঃসংবাদ। এখন থেকে ভারতীয় বয়ান (ন্যারেটিভ) আর মাথা তুলতে পারবে না। ডাকসুর এই রায় প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশী জনগণ স্বাধীনতার নতুন বয়ান খুঁজছে।”

বিএনপির ভরাডুবি: ভুল পথে হাঁটা

পিনাকী মনে করেন, বিএনপির এই পরাজয় তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও ভুল কৌশলের ফল।

বিএনপি আওয়ামী লীগের তৈরি মুক্তিযুদ্ধ বনাম স্বাধীনতাবিরোধী ন্যারেটিভের মধ্যেই নিজেদের আটকে ফেলেছে।

শিবিরকে আক্রমণ করতে গিয়ে তারা আওয়ামী লীগের ভাষা ধার করেছে, অথচ নিজেদের স্বতন্ত্র বাংলাদেশী বয়ান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর ফলে বিএনপি "এন্টি-ইন্ডিয়া ভোট ব্যাংক" হারিয়েছে, যা শিবির ধরে রাখতে পেরেছে।

তার মতে, “বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেটিভ ব্যবহার করে, তবে জনগণ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে? জনগণ আসল আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে।”

শিবিরের সংগঠনগত শক্তি ও কৌশল

পিনাকীর মতে, ছাত্রশিবির শুধু নির্বাচনে জেতেনি, তারা একটি শক্তিশালী আদর্শিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

তারা ইসলামী আন্দোলনের ধারাকে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করেছে।

এন্টি-ইন্ডিয়া মনোভাবকে একত্রিত করে শক্ত ভোট ব্যাংক তৈরি করেছে।

নিজেদের প্রান্তিক বলে মেনে না নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী সংগঠন হিসেবে সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, “যারা মনে করেছিল ইসলামপন্থীরা কেবল প্রান্তিক শক্তি, তারা আজকের ফলাফলে চূর্ণ হয়েছে। শিবির এখন মূলধারার শক্তি।”

সেকুলার রাজনীতির জন্য সতর্কবার্তা

পিনাকী মনে করেন, এই ফলাফল দেশের সেকুলার শক্তির জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এখন থেকে সেকুলার এসটাবলিশমেন্ট, বিদেশি সমর্থিত মিডিয়া এবং এনজিওরা একযোগে এই বিজয়কে আঘাত করতে আসবে। এই লড়াই এখন কেবল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যাবে।”

আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় প্রভাব

পিনাকী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত দীর্ঘদিন ধরে সেকুলার শক্তিকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ডাকসুর এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে—জনগণ ভারতীয় প্রভাব প্রত্যাখ্যান করছে।

তার মতে, “আজকের নির্বাচনে ভারতীয় বয়ান ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ভারতপন্থীরা আর আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।”

ইতিহাসে ডাকসুর ভূমিকা

পিনাকী অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের বিজয় সবসময় জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।

তোফায়েল আহমেদদের ডাকসু জয় আওয়ামী লীগের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।

আসম আবদুর রব ও আমানুল্লাহ আমানদের সময় ডাকসু আন্দোলন দেশের রাজনীতির গতিপথ বদলেছে।

তার মতে, এবারও ডাকসুর এই রায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে।

 

পিনাকী ভট্টাচার্য মনে করেন, এই ফলাফল শুধু ছাত্রশিবিরের জয় নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের নতুন রাজনৈতিক চেতনার প্রকাশ। তিনি বলেন, “ডাকসুর এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আরেকটি নতুন বয়ান—যেখানে ভারতীয় প্রভাব নয়, বরং বাংলাদেশী জনগণের মুক্তির স্বপ্নই হবে প্রধান শক্তি।”

নামাজের সময়

--:--:--
  • ফজর --:--
  • যোহর --:--
  • আসর --:--
  • মাগরিব --:--
  • এশা --:--
লোড হচ্ছে...

শহর নির্বাচন করুন