বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হত্যা: ডাকাতির সোনা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন, দাবি পুলিশের

মাগুরা পুলিশের দাবি, ২১ অক্টোবর গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে ছিনতাই করা সোনার বার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে; এ পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার।

মাগুরার পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে হত্যার নেপথ্যের ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ডাকাতি করা সোনার বার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁকে হত্যা করানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনসের ড্রিলশেডে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান। গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একটি পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে নিহত হন শাকের। তিনি ওই কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ৬ অক্টোবর। ওই দিন দুপুরে মানিকগঞ্জের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে সোনার কিছু দণ্ড নিয়ে বাসে ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিলেন। মাগুরা সদরের রামনগর এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে নেয় মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল। তাঁকে হুলিনগরের একটি নির্জন মেহগনিবাগানে নিয়ে মারধর করে ১৫০ ভরি ওজনের ১৪টি তেজাবি সোনার দণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার ২২ দিন পর, ২৮ অক্টোবর ওই ব্যবসায়ী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে সদর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ডাকাতির পর থেকেই দলের ভেতরে অবিশ্বাস দানা বাঁধে। মারুফ সহযোগীদের জানান, কম সংখ্যক সোনার দণ্ড পাওয়া গেছে এবং নিজের কাছে কিছু অংশ গোপনে রেখে দেন বলে পুলিশের অভিযোগ। এ নিয়ে এক বৈঠকে শাকের ও মারুফের মধ্যে হাতাহাতি ও গালিগালাজ হয়; গোলাম জাহিদ নামে একজন মধ্যস্থতা করেন। পরদিন ৮ অক্টোবর মারুফ শাকেরকে পাঁচ লাখ টাকা দিলেও শাকের তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে নিজের ভাগের দাবিতে চাপ বজায় রাখেন।

পুলিশ সুপার বলেন, চাপে কোণঠাসা হয়ে মারুফ গোলাম জাহিদের সঙ্গে পরামর্শ করে শাকেরকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি জাহিদকে ২০ লাখ টাকা দেন; পরদিন জাহিদ এর মধ্য থেকে ১৮ লাখ টাকা একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাগুরা শাখায় নিজের হিসাবে জমা করেন। এরপর ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শাকেরের মাথায় গুলি করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে আট সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল দুটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মারুফের ঘরের পেছন থেকে ৫১ ভরি ৯ আনা ওজনের পাঁচটি সোনার বার এবং অপর এক আসামির স্ত্রীর কাছ থেকে ১ ভরি ৭ আনা ওজনের একটি খণ্ডিত দণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেট কার, গুলি ও খালি কার্তুজ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সরাসরি গুলিবর্ষণকারী ভাড়াটে শুটারদের শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধার ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনকে জেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল। উল্লেখ্য, পুলিশের এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং আসামিরা অভিযুক্ত মাত্র।