বগুড়ার শেরপুরে রাতের আঁধারে দুই কৃষকের কলাবাগানের প্রায় ১ হাজার ৪০০ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে বাগানের অধিকাংশ গাছ নষ্ট হয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা হলেন চোমরপাথালিয়া বাজার এলাকার আবুল কালাম ফেলুর ছেলে ফরিদ এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সত্তার। তাঁরা জমি বর্গা নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছিলেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কলাবাগানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক গাছ কেটে ফেলে। বুধবার সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকেরা গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান।
ফরিদ ও মেহেদী জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে এবং ধারদেনা করে তাঁরা কলার চাষ শুরু করেছিলেন। বাগান পরিচর্যায় মাসের পর মাস শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বাগানের গাছ কাটা হয়েছে। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তাঁরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। একই রাতে দুই কৃষকের বাগানের এত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।